ঢাকা, রবিবার, ২৭ সেপ্টেম্বর, ২০২৬

হাফপ্যান্ট পরায় অ্যাথলেট প্রশিক্ষককে মেট্রোস্টেশনে হেনস্তা

শরীরচর্চা শেষে টি-শার্ট ও হাফপ্যান্ট পরে মেট্রোরেলে উঠতে গিয়ে হয়রানির শিকার হওয়ার অভিযোগ করেছেন অ্যাথলেটিক প্রশিক্ষক সাজ্জাদ হোসেন। তার পোশাককে ‘অশালীন’ উল্লেখ করে রাজধানীর ফার্মগেট মেট্রোস্টেশনে দায়িত্বরত এক পুলিশ সদস্য তাকে প্রায় ৪০ মিনিট দাঁড় করিয়ে রাখেন বলে অভিযোগ করেছেন তিনি। রোববার (২৭ সেপ্টেম্বর) সকালে এ ঘটনা ঘটে।    


সাজ্জাদ হোসেন প্রায় এক দশক ধরে ম্যারাথন ও আল্ট্রাম্যারাথনের প্রশিক্ষক হিসেবে কাজ করছেন। পাশাপাশি তিনি নিজেও নিয়মিত দৌড়ান এবং ঢাকার বিভিন্ন পার্কে ভোরবেলা প্রশিক্ষণ দিয়ে থাকেন।  


ঘটনার পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে একটি ভিডিও প্রকাশ করেন সাজ্জাদ। ৫৫ সেকেন্ডের ভিডিওতে ‘জাকির’ নামের নেমপ্লেট পরা এক পুলিশ সদস্যকে দেখা যায়। ভিডিওতে ওই পুলিশ সদস্যকে সাজ্জাদের পোশাক নিয়ে শালীনতার প্রসঙ্গ তুলতে শোনা যায়। 


সাজ্জাদ জানতে চান, কোন পোশাক শালীন আর কোনটি অশালীন, এ বিষয়ে মেট্রোরেলের কোনো লিখিত নিয়ম আছে কি না। জবাবে ওই পুলিশ সদস্য বলেন, বিষয়টি দেখা তার দায়িত্ব।


সাজ্জাদের ভাষ্য অনুযায়ী, সেদিন সকালে রমনায় প্রশিক্ষণ শেষে ফার্মগেটে একটি ব্যক্তিগত কাজ সারেন তিনি। এরপর বিজয় সরণি যাওয়ার জন্য ফার্মগেট মেট্রোস্টেশনে গেলে টিকিট কাটার পর এক পুলিশ সদস্য তাকে থামিয়ে পোশাক নিয়ে আপত্তি জানান। তিনি নিজেকে রানিং কোচ হিসেবে পরিচয় দিয়ে জানান, প্রশিক্ষণ শেষে গন্তব্যে যাওয়ার জন্য মেট্রোরেল ব্যবহার করছেন। সাজ্জাদ দাবি করেন, সেখানে উপস্থিত আরও দুই পুলিশ সদস্যও তাকে বলেন, মেট্রোরেল যেহেতু একটি পাবলিক প্লেস, তাই এভাবে শর্টস পরে যাওয়া যাবে না। তাকে ট্রাউজার পরে আসতে বলা হয়। এমনকি শর্টস খুলে রেখে ট্রাউজার পরে আসার কথাও বলা হয়েছিল বলে তার অভিযোগ। এ অবস্থায় তাকে প্রায় ৪০ মিনিট দাঁড় করিয়ে রাখা হয়।


এ ছাড়া মেট্রোরেলের কন্ট্রোল বোর্ডের এক নারী কর্মকর্তাও তার পোশাক নিয়ে প্রশ্ন করেন বলে জানান সাজ্জাদ। ওই কর্মকর্তা তার ছবি তুলে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের সঙ্গে বিষয়টি নিয়ে কথা বলতে যান বলেও দাবি করেন তিনি। পরে কর্তৃপক্ষের সঙ্গে কথা বলার পর তাকে মেট্রোরেলে ভ্রমণের অনুমতি দেওয়া হয়। 


ঘটনার পর ফার্মগেট মেট্রোস্টেশনে লিখিত অভিযোগ করেছেন সাজ্জাদ। তবে অভিযোগের কোনো কপি তাকে দেওয়া হয়নি এবং অভিযোগের ছবি তুলতেও দেওয়া হয়নি বলে জানান তিনি।


এ বিষয়ে মেট্রোরেলের এক ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা জানান, মেট্রোরেলে যাতায়াতের ক্ষেত্রে নির্দিষ্ট কোনো ড্রেস কোড নেই। তবে ঘটনাটির বিষয়ে দায়িত্বপ্রাপ্ত এমআরটি পুলিশের জনসংযোগ কর্মকর্তার বক্তব্য পাওয়া যায়নি।


সাজ্জাদের বক্তব্য, সাধারণ মানুষের কাছ থেকে পোশাক নিয়ে মন্তব্য করা এবং প্রশাসনের একটি স্থানে পোশাকের কারণে গণপরিবহন ব্যবহারে বাধা দেওয়া এক বিষয় নয়। তার মতে, ব্যায়াম বা দৌড়ের প্রশিক্ষণ শেষে একজন ব্যক্তি যে ধরনের ক্রীড়াবিষয়ক পোশাক পরেন, সেটি স্বাভাবিক। মেট্রোরেলে শর্টস পরা নিষিদ্ধ হলে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের লিখিত নিয়ম দেখানো উচিত ছিল।

ads
ads
ads

Our Facebook Page

↑